রাজ্যে কবে থেকে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’? মহিলাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বড় ঘোষণা বিজেপি সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।

ছবি : এ . আই দ্বারা প্রণীত

প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা: আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। নির্বাচনের সময় দেওয়া কথা রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।

মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা: এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। জানা গেছে, প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন উপভোক্তারা।

সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত: শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, ১ জুন থেকে রাজ্যের মা-বোনেরা সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন। যাতায়াতের খরচ কমাতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রবেশ: কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এতদিন রাজ্যে চালু ছিল না। আনন্দময় বর্মণ জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে বাংলার মানুষ এই উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন।

সমস্ত সামাজিক প্রকল্প অব্যাহত: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী বাম বা তৃণমূল সরকারের আমলের কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। বরং সবকটি প্রকল্প সচল রেখে নতুন সুবিধা যোগ করা হবে।

কেন্দ্রীয় সুবিধার দ্রুত বাস্তবায়ন: আনন্দময় বর্মণের দাবি অনুযায়ী, বাংলার সাধারণ মানুষ এতদিন কেন্দ্রের যেসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এবার থেকে সেগুলি দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত: নবান্নে আয়োজিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জনহিতকর সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের শুরুতেই সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে: নবান্ন সূত্রে খবর, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর জন্য আমলারা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দ্রুত গতিতে আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ডেটা যাচাই: প্রশাসনিক স্তরে পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ডেটা বা তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ না পড়েন এবং দ্রুত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে রূপান্তর করা যায়।

জয়ী প্রার্থীদের সাথে বৈঠক: সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো সকলকে অবগত করেন এবং নিচুতলায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও জনমত: রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। সরকার গঠনের পর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা দিল।

আগামী দিনের লক্ষ্য: জুন মাসের শুরু থেকেই এই একগুচ্ছ প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করলে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় বড়সড় বদল আসবে বলে মনে করছে সরকার পক্ষ।

Post a Comment

0 Comments