মন্ত্রী হয়েই বড় বার্তা ক্ষুদিরাম টুডুর! ‘ফেক ST সার্টিফিকেট বন্ধ করব’, আদিবাসী উন্নয়নেই জোর নতুন মন্ত্রীর

শ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন মন্ত্রীদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বড় বার্তা দিলেন রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন এবং ভুয়ো ST সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত


ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্ষুদিরাম টুডু। সেখানেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।

‘আদিবাসী উন্নয়নই আমার প্রথম কাজ’ — স্পষ্ট বার্তা ক্ষুদিরামের :

মন্ত্রী হওয়ার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। তাঁর কথায়, তিনি কখনও ভাবেননি যে একদিন মন্ত্রী হবেন। তবে বিজেপি তাঁকে সেই সুযোগ দিয়েছে বলেই তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের বিষয়।

ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্যের মূল দিক :

  • আদিবাসী উন্নয়ন হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

  • জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন হোস্টেল ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত আদিবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে।

ভুয়ো ST সার্টিফিকেট নিয়ে কড়া অবস্থান :

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা হল তাঁর ‘ফেক ST সার্টিফিকেট’ সংক্রান্ত মন্তব্য।

ক্ষুদিরাম টুডু দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বহু ভুয়ো ST সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের জাল সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে তিনি কী বলেছেন?

  • ভুয়ো ST সার্টিফিকেট বন্ধ করার কথা বলেন।

  • প্রকৃত আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার উপর জোর দেন।

  • সরকারি সুবিধা যাতে ভুল হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

  • প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

জঙ্গলমহল থেকে মন্ত্রিসভা, নিজের যাত্রাপথ নিয়ে আবেগঘন ক্ষুদিরাম :

ক্ষুদিরাম টুডু নিজের বক্তব্যে জঙ্গলমহলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। একসময় যে এলাকা মাওবাদী সমস্যার জন্য পরিচিত ছিল, সেখান থেকেই তাঁকে তুলে এনে বিজেপি মন্ত্রী করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সমাজের মানুষও এখন প্রশাসনের উচ্চস্তরে জায়গা পাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছানো সম্ভব।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন ক্ষুদিরাম ?

নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও প্রশংসা শোনা যায় ক্ষুদিরামের গলায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী একজন “কাজের লোক” এবং “লড়াই করার মানুষ”।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের ভিত শক্ত করতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বকে সামনে রেখেই বিজেপি এগোতে চাইছে।

ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান :

শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

  • প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

  • বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি

  • উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

  • অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা

  • অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু

  • ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি

  • মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ

এছাড়াও বহু বিজেপি নেতা, কর্মী এবং সমর্থকের উপস্থিতিতে ব্রিগেড কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কারা কারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ?

শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

মন্ত্রীদের তালিকায় ছিলেন

  • দিলীপ ঘোষ

  • অগ্নিমিত্রা পাল

  • ক্ষুদিরাম টুডু

  • নিশীথ প্রামাণিক

  • অশোক কীর্তনিয়া

যদিও এখনও কার হাতে কোন দফতর যাবে, তা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

রাজনৈতিক মহলে কেন এত আলোচনা ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুদিরাম টুডুর মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ST সার্টিফিকেট নিয়ে তাঁর কড়া অবস্থান আগামী দিনে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, আদিবাসী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়ে বিজেপি জঙ্গলমহলে নিজেদের সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। 

Post a Comment

0 Comments