কলকাতা নিউজ ডেস্ক: কলকাতার লেকটাউনে অবস্থিত ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির সুবিশাল ৭০ ফুটের মূর্তিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
![]() |
| ছবি : এ . আই দ্বারা প্রণীত |
যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। সোমবার দুপুর থেকেই দেখা যাচ্ছে, সামান্য হাওয়া দিলেই মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পূর্ত দফতরের ঠিকাদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাঠামোটি দ্রুত সরিয়ে ফেলাই এখন একমাত্র নিরাপদ পথ।
নিচে পুরো ঘটনাটি সহজ ভাষায় এবং বিস্তারিত পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
১. হাওয়ায় দুলছে মেসির মূর্তি, এলাকায় চরম আতঙ্ক
সোমবার দুপুর নাগাদ লেকটাউনের ভিআইপি রোডের সাবওয়ের ওপর থাকা লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তিটি আচমকাই নড়তে শুরু করে। পথচলতি মানুষ লক্ষ্য করেন, একটু জোরে হাওয়া দিলেই ৭০ ফুটের ওই বিশাল কাঠামোটি এপাশ-ওপাশ দুলছে। এমনকি মূর্তির পায়ের অংশটি একবার ওপরে উঠছে এবং একবার নিচে নামছে। এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা দ্রুত স্থানীয় লেকটাউন থানায় খবর দেন।
২. ঘটনাস্থলে পুলিশ ও পূর্ত দফতর, ফাউন্ডেশনে বড় গলদ
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লেকটাউন থানার পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডেকে পাঠানো হয় রাজ্যের পূর্ত দফতরের (PWD) আধিকারিক ও কর্মীদের। তাঁরা এসে মূর্তিটি ভালো করে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে পূর্ত দফতরের ঠিকাদার প্রবীর পাল জানান, মূর্তির নিচের মূল কাঠামো বা ‘ফাউন্ডেশন বোল্ট’-এ বড়সড় ত্রুটি বা গলদ রয়েছে। যার কারণে এটি নিজের ভর ধরে রাখতে পারছে না।
৩. মূর্তিটি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার সুপারিশ
ঠিকাদার প্রবীর পাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মূর্তিটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় এটি উল্টে গিয়ে নিচে পড়তে পারে এবং ভিআইপি রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “মূর্তিটির ফাউন্ডেশন বোল্ট ঠিক কী অবস্থায় আছে তা বলা মুশকিল। যদি এটিকে এখানেই রাখতে হয়, তবে নতুন করে ফাউন্ডেশন তৈরি করতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে মূর্তিটি এখান থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।” এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
৪. মেসির কলকাতা সফর ও মূর্তি বিতর্কের ইতিহাস
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি কলকাতা সফরে এসেছিলেন। সেই সময়ই ভিআইপি রোডের পারাপারের আন্ডারপাসের ওপরে এই ৭০ ফুট উঁচু মূর্তিটি বসানো হয়। মেসি নিজে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই মূর্তির উন্মোচন করেছিলেন। তবে এই মূর্তিটি নিয়ে আইনি বিতর্ক নতুন নয়। এটি সরকারি জমিতে নিয়ম মেনে বসানো হয়েছে কিনা, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল।
৫. মন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই সুবিশাল মেসি মূর্তিটি স্থাপনের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর। কাকতালীয়ভাবে, সম্প্রতি পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পুলিশ সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে। মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পরই এই মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর কাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
সল্টলেকে চাকরিপ্রার্থীদের তুমুল ভিড়, পাশে দাঁড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা ব্যুরো: একদিকে যখন লেকটাউনে মূর্তির আতঙ্ক, ঠিক তখনই সল্টলেকের ‘জনতার দরবার’ চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠল চাকরিপ্রার্থীদের জমায়েতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় করেন বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন এমন বহু মানুষও এই জমায়েতে সামিল হন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে সেখানে হাজির হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চাকরিহারা ও বঞ্চিত যুবকদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেন।
বেলেঘাটায় প্রোমোটার রাজের দাপট! ভাঙা পড়ল তৃণমূল নেতার বহুতল, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় প্রোমোটারি সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পরিস্থিতি। বেলেঘাটার স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজুর একটি বহুতল আবাসন ভাঙতে সোমবার সকালে এলাকায় পৌঁছায় বুলডোজার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি হাতাহাতির রূপ নেয় এবং উত্তেজিত জনতা প্রোমোটারের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গণপিটুনি দেয় বলে অভিযোগ। বেগতিক বুঝে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
যুবভারতীর সেই বিশৃঙ্খল স্মৃতি এবং হাইকোর্টের মামলা
ক্রীড়া প্রতিবেদক: লেকটাউনের এই মেসি মূর্তির প্রসঙ্গ আসতেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে মেসির গত বছরের সেই কলকাতা সফরের বিতর্কিত অধ্যায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে একঝলক দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার কারণে মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার অভাব থাকায় নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে গ্যালারির আড়ালে নিয়ে যান। ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠের ভেতর চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং বোতল ছোঁড়েন। যুবভারতী স্টেডিয়ামের সেই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবের ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়।

0 Comments